Published : 27 Feb 2026, 03:07 AM
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্তে সম্প্রতি সাক্ষ্য দিয়েছেন দেশটির প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তিনি এপস্টিনের কুকর্মের তদন্তে গঠিত প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির মুখোমুখি হন। তবে এই সাক্ষ্যগ্রহণ ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নাটকীয় পরিস্থিতি। গোপন কক্ষে চলা সাক্ষ্যের সময় হিলারির একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে জবানবন্দি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। হিলারি ক্লিনটন তাঁর স্বামী প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদের ‘হাউস ওভারসাইট কমিটির’ কাছে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কমিটির সামনে হাজির হন হিলারি। শুক্রবার বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে ক্লিনটন দম্পতি এই সাক্ষ্যগ্রহণকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে কমিটির সামনে যেতে অস্বীকার করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত রাজি হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রতি অবমাননার অভিযোগ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে।
গোপন কক্ষের সাক্ষ্যের সময় হিলারির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন консерватив ইউটিউবার বেনি জনসন। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘হিলারিকে বিষণ্ণ দেখাচ্ছে’। তিনি আরও জানান, এই ছবিটি তাঁকে রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য লরেন বোয়েবার্ট পাঠিয়েছেন। ছবিটি ছড়িয়ে পড়ায় চারদিকে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কারণ, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন ছবি তোলা এবং তা প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। যদিও রেকর্ড করে পরে তা প্রকাশের অনুমতি ছিল। ছবি ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হিলারি। বিবিসির কাছে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় লরেন বোয়েবার্ট বেনি জনসনকে ছবিটি পাঠানোর কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ছবিটি সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে তোলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের সাক্ষ্যে হিলারি কী বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
তবে বিবিসি জানিয়েছে, রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদের এই কমিটিকে হিলারি ‘পক্ষপাতদুষ্ট রাজনৈতিক প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, কমিটির উচিত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সাক্ষ্য দিতে অনুরোধ করা। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে হিলারি ক্লিনটন জানিয়েছিলেন, তিনি জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার কোনো স্মৃতি নেই। তবে তাঁর স্বামী বিল ক্লিনটন এপস্টিনকে চিনতেন। তিনি আরও বলেন, বিল ক্লিনটন কোনো অপরাধ বা এপস্টিনের কুকর্ম সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। হিলারি আরও বলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আমরা এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি প্রকাশ করার জন্য বারবার অনুরোধ করেছি। আমাদের বিশ্বাস, স্বচ্ছতাই অপরাধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’।